ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতার তুলনা ২০২৩ ১ম পর্ব

ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতার তুলনা ২০২৩ বিস্তারিত...The Historical Analysis (THA News)

ভারত ও পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ার দুটি প্রতিবেশী দেশ যাদের রয়েছে দীর্ঘ সময় ধরে দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনার ইতিহাস। এই দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতার একটি প্রধান সেক্টর হলো তাদের সামরিক সক্ষমতা। এই প্রতিবেদনে আমরা ভারত ও পাকিস্তানের সামরিক শক্তির তুলনা করব।

সক্রিয় সামরিক কর্মীদের সংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে, ভারতের আনুমানিক ১.৪ মিলিয়ন বা ১৪ লাখের মতো সেনা সদস্যদল নিয়ে একটি বৃহত্তর সামরিক বাহিনী রয়েছে, যেখানে পাকিস্তানের প্রায় ৬ লাখ ৫০হাজার সক্রিয় সেনা রয়েছে।
এখানে মূলত সেনা সদস্যের সংখ্যা নিয়ে বিশ্লেষণ করা সম্ভব নয় কেননা পাকিস্তানের তুলনায় ভারত অনেক বড় এবং আয়তনে বিশাল হওয়ায় পাকিস্তান ভারতের তুলনায় মাথাপিছু সামরিক কর্মীদের উচ্চ অনুপাত বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক খুব একটা ভালো নয় সেখানে পাকিস্তান চীনের মতো রাষ্ট্রকে টেকনিক্যালি ব্যবহার করে যা ভারতকে বেশ কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছে এবং সেনা সক্ষমতায় অনেকটা পিছিয়ে পড়েছে।

যখন সরঞ্জাম এবং অস্ত্রের কথা আসে তখন ভারত একটি স্পষ্ট সুবিধাজনক জায়গায় থাকে। ভারতের কাছে যুদ্ধবিমান, ট্যাঙ্ক এবং আর্টিলারি রয়েছে। উপরন্তু, ভারত ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির অনেক উন্নত এবং যার পাল্লা অনেক দীর্ঘ। যার মধ্যে রয়েছে অগ্নি সিরিজের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যা ৫০০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে পারমাণবিক ওয়ারহেডসহ আঘাত হানতে সক্ষম।
অন্যদিকে পাকিস্তানও বসে নেই ভারতের সামরিক শক্তিকে মোকাবেলা করতে তারাও শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা তৈরি করেছে। পাকিস্তান শাহীন সিরিজের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করেছে, যা 2,500 কিলোমিটার দূরে পারমাণবিক ওয়ারহেডসহ আঘাত হানতে সক্ষম। এই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ভারত, বাংলাদেশ, ইরান এমনকি ইসরাইলেও হামলা চালাতে সক্ষম পাকিস্তান। তাই ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে পাকিস্তান যে ভারত থেকে খুব একটা পিছিয়ে আছে এটা বলা ভুল হবে।

পাকিস্তান আটটি সাবমেরিন সহ একটি শক্তিশালী নৌবাহিনী তৈরি করেছে এবং তার নিজস্ব ফাইটার এয়ারক্রাফ্ট বা যুদ্ধবিমান JF-17 থান্ডার তৈরি করছে এবং তা রপ্তানিও করেছে‌। কিন্তু ভারত এখন পর্যন্ত সফলভাবে তার নিজস্ব কোনো যুদ্ধবিমানই তৈরি করতে পারি নি।

উভয় দেশেরই পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে, ভারত পারমাণবিক ওয়ারহেড ১৫৬টি অন্যদিকে পাকিস্তানের কাছে ১৬৫টি পারমাণবিক ওয়ারহেড রয়েছে। উভয় দেশের পারমাণবিক অস্ত্রের মজুদ যেকোনো সম্ভাব্য সামরিক সংঘর্ষে জটিলতার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

সামরিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে, ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট পাকিস্তানের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ভারতের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমান করা হয়েছে প্রায় ৭২.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যেখানে একই বছরের জন্য পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাজেট প্রায় ৮.৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই বাজেটের বড় অংশ ভারত সর্বাধুনিক প্রযুক্তি এবং সমরাস্ত্র আমদানির পেছনে ব্যায় করা হয়৷

এছাড়া পাকিস্তানে "পাকিস্তান রেঞ্জার্স" নামে পরিচিত একটি শক্তিশালী আধাসামরিক বাহিনী গড়ে তোলা হয়েছে, যা দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য কাজ করে থাকে। পাকিস্তান বিশ্বজুড়ে অসংখ্য শান্তিরক্ষা মিশনেও জড়িত।

যদি ভারত পাকিস্তান সামরিক সক্ষমতার উপসংহার টানি তাহলে বলা যায় ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই উল্লেখযোগ্য সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। ভারত তার সামরিক শক্তির আকার এবং আধুনিক প্রযুক্তি এবং সরঞ্জামগুলিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে একটি সুবিধাজনক অবস্থানয় থাকলেও পাকিস্তান তার শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং শক্তিশালী নৌবাহিনী তৈরি করেছে। উভয় দেশের পারমাণবিক অস্ত্র থাকার কারণে, দুই দেশের মধ্যে যে কোনো সামরিক সংঘর্ষের বিপর্যয়কর পরিণতি হতে পারে। তাই এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে কাজ করা উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

0 মন্তব্যসমূহ